Header Border

ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নায়িকা থেকে নতুন রূপে ওয়াহিদা রহমান

ওয়াহিদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

৮৭ বছর বয়সেও ক্যামেরা হাতে বনের গভীরে হাঁটেন তিনি। কখনো ভারত, কখনো কেনিয়া, তানজানিয়া বা নাইজেরিয়ার সাফারি পার্কে—আন্তর্জাতিক ওয়াইল্ডলাইফ আলোকচিত্রীদের সঙ্গে পা মেলান সমানতালে। যেন ছবি তোলার মধ্যেই খুঁজে পান নিজের নতুন রূপ, নতুন ছায়া।

কিন্তু এ তো তার জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়। প্রথম অধ্যায়ের আলো ছিল সম্পূর্ণ আলাদা—সে আলো ছিল রুপালি পর্দার। ষাট, সত্তর আর আশির দশকে ওয়াহিদা রহমান বলিউডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শুধু সুন্দরী নায়িকা নয়, বরং চরিত্রের গভীরে যিনি ডুব দিতে জানতেন।

‘গাইড’ সিনেমায় রোজি চরিত্রে অভিনয় করে প্রমাণ করেছিলেন, নারী শুধু কারো প্রেমিকা নয়, নিজের ইচ্ছেতেও বাঁচতে জানে। দেব আনন্দের সঙ্গে তার জুটি এই ছবিতে কালজয়ী হয়ে ওঠে। এরপর আসে চৌধবী কা চাঁদ , সাহেব বিবি অউর গুলাম , পলং, রেশমা অউর শেরা, পেয়ার কি দাস্তান- প্রতিটি সিনেমাতেই ওয়াহিদা যেন একেকটা চরিত্র নয়, একেকটা অনুভব। তার চোখে ছিল কথা, তার শরীরী ভাষায় ছিল আত্মা।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গেও তিনি অভিনয় করেছেন—বিশেষ করে কবহি কবহি, ত্রিশূল’র মতো সিনেমায়। আবার অমিতাভের সঙ্গে তার অভিনয় ছিল কোচনামা নামের একটি চলচ্চিত্রে, যেখানে তিনি এক দৃঢ়চেতা মায়ের চরিত্রে ছিলেন। অমিতাভের গাম্ভীর্য আর ওয়াহিদার মমতাময় দৃঢ়তা একসঙ্গে মিলেমিশে যেন চরিত্রগুলোকেই বাস্তব করে তুলেছিল।

ওয়াহিদা নিজেই বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকেই তার ক্যামেরার প্রতি ছিল টান। অভিনয়ের সেটে যখন সবাই সংলাপ মুখস্থ করতেন, তখন তিনি হাতে রাখতেন একটি ছোট ক্যামেরা। অ্যাকশন-কাট এর মাঝে আশপাশের দৃশ্য, মানুষের অভিব্যক্তি, আলো-ছায়ার খেলা ধরে রাখতেন নিজের মতো করে। তার বন্ধুরা তখনই বুঝেছিল—এই মেয়ের চোখে আছে এক আলাদা দেখার শক্তি।

এই দেখার শক্তিটাই এখন তার দ্বিতীয় জীবন। এখন আর তিনি আলোতে দাঁড়িয়ে নন, এখন তিনি আলোর দিকেই তাকান। ছবি আঁকেন, ছবি তোলেন, হাঁটেন একা একা অজানা রাস্তায়, সময় কাটান নাতি-নাতনিদের সঙ্গে। আর প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে মনে ভাবেন আজকের দিনটা যেন ভালোভাবে উপভোগ করতে পারি।

এভাবেই ওয়াহিদা রেহমান হয়ে ওঠেন একজন পূর্ণ মানুষ একসময়কার বলিউডের তুখোড় অভিনেত্রী, আর আজকের একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী ও ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার। আর এই জীবনের প্রতিটা বাঁক আমাদের শিখিয়ে দেয়— যা ভালোবাস, সেটা ধরেই থাকো। বয়স, সময়, খ্যাতি— সব আসবে যাবে। কিন্তু নিজেকে খুঁজে নেওয়ার এই ভ্রমণটাই সবচেয়ে সত্যি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

তারকাদের নিয়ে গুজব ছড়ানো নিয়ে মুখ খুললেন সোনালি
আসছে ‘মুঝসে শাদি করোগি’র সিকুয়্যাল