‘হাওয়া’ ছবির পর হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। এমন কথা প্রায় শোনা গেছে। একদিকে ছিল তারকা খ্যাতি, অন্যদিকে ছিল সিনেমার পেছনে বারবার তার নাম জড়িয়ে শিরোনাম হওয়া। কিন্তু পর্দায় যেন কিছুতেই ধরা দিচ্ছিলেন না তিনি। কেউ কেউ বলতেও শুরু করেছিল, হাওয়ার পর তুষি নিজেই কি তবে হয়ে গেলেন একরকম পর্দার গুলতি? তবে সেই দীর্ঘ নীরবতা যেন এবার ভাঙছে। এবার নিজেই মুখ খুললেন তুষি, জানালেন এক ঐতিহাসিক চরিত্রে নিজের প্রত্যাবর্তনের খবর।
নতুন সিনেমার নাম ‘সখী রঙ্গমালা’। এই সিনেমায় নাজিফা তুষি অভিনয় করছেন কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘রঙ্গমালা’র ভূমিকায়। সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে অষ্টাদশ শতকের এক জমিদারবাড়ির কাহিনি নিয়ে, যার পটভূমি নোয়াখালী। মূল কাহিনি নেওয়া হয়েছে খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতারের ঐতিহাসিক উপন্যাস সখী রঙ্গমালা থেকে। উপন্যাসটি যেমন ছিল নারীভাগ্য, আধ্যাত্মিকতা আর সমাজ-সংঘাতের এক জটিল বুনন, সিনেমাটিও সেই আবহ নিয়েই এগোচ্ছে। আর এই দুঃসাহসী প্রয়াসের পরিচালক চন্দ্রাবতী কথা খ্যাত এন রাশেদ চৌধুরী, যিনি সরকারি অনুদানে সিনেমাটি নির্মাণ করছেন।
নাজিফা তুষি জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিনেমাটির শুটিং শুরু করেন তিনি। ইতোমধ্যেই এক লটের কাজ শেষ হয়েছে এবং সামনে আরেক লটে অংশ নেবেন তিনি। এই চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে নাজিফা এক ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। তুষির ভাষায়, প্রায় দুইশো বছর আগের গল্প নিয়ে কাজ করা, তাও আবার একটা স্পিরিচুয়াল ধারা, একদম নতুন অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়েছে এই চরিত্রটা আমার করা উচিত। গল্পটা আবার নোয়াখালীর, আমি নিজেও সেই অঞ্চলের মেয়ে—এই জায়গা থেকে একটা আত্মিক টান তো থাকেই।
নাজিফা তুষির এই কামব্যাক যেন কেবল আরেকটি সিনেমার গল্প নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই চরিত্রে তার আবেগ, আত্মিক টান আর অভিনয়শৈলী কতটা প্রাণবন্ত হয়ে ধরা দেয়, সেটা দেখা যাবে বড় পর্দায়। তবে একথা বলা যেতেই পারে—হাওয়ার গুলতির পর এবার তুষি নিজেই হয়ে উঠতে চলেছেন এক চিরন্তন রঙ্গমালা।


