Header Border

ঢাকাশুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বর্ষাকে সতর্ক করলেন পরীমনি!

বর্ষা চৌধুরী ও পরিমনি। ছবি: সংগৃহীত

একটা দুপুর একদমই সাধারণ, হালকা রোদ, নরম হাওয়া। হঠাৎ করেই সামাজিকমাধ্যমে ঝড় বয়ে যায়— ‘বর্ষা চৌধুরী নাকি মারা গেছেন!’ খবরটা প্রথম ছড়ায় বর্ষার নিজের ফেসবুক পেজ থেকেই। যেন একেবারে নিশ্চিতভাবে বলা হয়—তিনি আর নেই। এরপর সেই পোস্ট শেয়ার করেন নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার বারিশা হক। এমন একজন কাছের মানুষের হাত দিয়েই যেন খবরটা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

মানুষ তো আর চুপ করে বসে থাকে না! হুড়মুড় করে কমেন্ট, শেয়ার, রিপ আর চোখের জল ভর্তি ইমোজির বন্যা বইতে শুরু করে। কারও বিশ্বাস হচ্ছিল না, কারও আবার খুবই বিশ্বাস হচ্ছিল। অথচ এই পুরো কাণ্ডটা যে আসলে একটা বিভ্রান্তিকর নাটক, সেটা বোঝা গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই।

বারিশা হক, যিনি কিছু আগেই বর্ষার মৃত্যুর খবর শেয়ার করেছিলেন, তিনিই আবার আরেকটা পোস্ট করলেন— এইবার পরিবারের বরাত দিয়ে জানালেন, বর্ষা চৌধুরী একেবারে সুস্থ ও জীবিত। কে যেন বর্ষার আইডি হ্যাক করে বা অনুমতি ছাড়া এমন পোস্ট করেছে। এই অংশটুকু নিয়েই রহস্যটা আরও ঘনীভূত। কে করল, কেন করল, কী উদ্দেশ্যে— এসব প্রশ্নে কেবল ভ্রু কুঁচকানো ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

তবে চুপ থাকলেন না ঢালিউডের রঙিন আর আলোচিত নায়িকা পরীমনি। সোশ্যাল মিডিয়ার এক ফাঁকে বর্ষাকে উদ্দেশ করে তিনি লিখলেন— এভাবে মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়ানো একদিন এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, যেদিন তুমি সত্যি চলে যাবে, কেউ বিশ্বাস করবে না। রাখাল বালক আর বাঘের সেই পুরনো গল্পটা টেনে আনলেন পরীমনি, যেন একটু কষে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন— মৃত্যু নিয়ে খেলাটা একেবারেই অমার্জনীয়।

এই পুরো ঘটনাটা যতটা বেদনাদায়ক, তার চেয়েও বেশি অদ্ভুত। বর্ষা চৌধুরী কোনোদিনই খুব সাধারণ ছিলেন না। তার জীবনযাত্রা, সম্পর্ক, ভালোবাসা, সব কিছুতেই নাটকীয়তা যেন লেগেই আছে। দুই বছর আগে হঠাৎ করেই মৃত্যুবরণ করেন বর্ষার দ্বিতীয় স্বামী, ব্যান্ডশিল্পী রুমি রহমান। সে সময়ে বর্ষা চৌধুরীর ভেঙে পড়া, তার অগণিত পোস্ট আর ভিডিও, তার গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ— এসব সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দেখেছেন, কেউ কেউ চোখ ভিজিয়েছেন, আবার কেউ কেউ সেটাকেও নাটক বলেছেন।

এরপর সময় গড়িয়েছে, বর্ষা আবার বিয়ে করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক অভিনেতা রাসেল মিয়াকে। কিন্তু সংসার টিকল না। বর্ষা আবার ফিরে এলেন আলোচনায়, বিতর্কে এইবার প্রেম, সম্পর্ক আর বিচ্ছেদের গল্পে।

তবে এবার যা ঘটল, সেটা যেন আগের সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেল। একটা মানুষ হুট করে নিজের মৃত্যুর খবর ছড়ানোর মতো জিনিসে জড়ালে, সেটা নিছক দুষ্টুমি নয়। এটা মানসিক চাপ, মানসিক জটিলতা, অথবা চরম হতাশা থেকেও জন্ম নিতে পারে। আবার এটাও হতে পারে – দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য পরিকল্পিত কিছু।

কিন্তু যাই হোক, একজন মানুষকে মারা গেছেন বলে চালিয়ে দেওয়া, সেটাকে ঘিরে তোলপাড় করা, আর পরে ওহ, মাফ করবেন! ভুল হয়েছে!” বলার মতো বিষয় না। এ শুধু বিভ্রান্তি না, এটা একধরনের মানসিক আঘাত। এমন কিছুর পর মানুষ আস্তে আস্তে বিশ্বাস করাই ছেড়ে দেয়।

বর্ষা চৌধুরী এখনো বেঁচে আছেন – এটাই এখন সবচেয়ে আনন্দের কথা। কিন্তু তার চারপাশে যেসব কাণ্ড ঘটে যাচ্ছে, সেগুলো যেন তার জীবনের আসল কাহিনিকেও ফিকে করে দিচ্ছে। সময় এসেছে বর্ষা নিজেই নিজের গল্পের নিয়ন্ত্রণ নেন, যেন তার জীবন নিয়ে নাটক চলে, কিন্তু সেটা শুধু রিলের মধ্যে থাকে, রিয়েল লাইফে নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

লাজুক মেয়ে থেকে কিংবদন্তি শাবানা
তারকাদের নিয়ে গুজব ছড়ানো নিয়ে মুখ খুললেন সোনালি
‘তাণ্ডব’ সিনেমায় যুক্ত হলেন আফজাল হোসেন
বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় অঙ্কুশ!
আসছে ‘মুঝসে শাদি করোগি’র সিকুয়্যাল
শাকিব খান: একটা প্রজন্মের স্বপ্নের নাম